সিরাজগঞ্জে কীটনাশক দিয়ে পাখি হত্যা
সাদাকালো নিউজ ডেস্ক
বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুরের নরিনা ইউনিয়ন। এখানকার একটি গ্রামেই ঘটেছে এক নিষ্ঠুর ঘটনা। কীটনাশক খাইয়ে অর্ধশাতাধিক পাখি হত্যা করেছেন এক কৃষক। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
থানার অভিযোগ থেকে জানা যায়, নরিনা ইউনিয়নের একটি গ্রামের একজন কৃষক পাখির আক্রমণ থেকে ক্ষেতের ফসল রক্ষা করতে কীটনাশক ব্যবহার করেন। তিনি পাখি মারার জন্য ক্ষেতে মাষকলাই ডালের সাথে কীটনাশক মিশিয়ে ছিটিয়ে দেন।
এরপর ঐ কীটনাশক মিশানো শস্য খেয়ে ৬০ থেকে ৭০টি পাখি মারা যায় বলে দাবি করেছেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘দ্য বার্ড সেফটি হাউজ’এর প্রধান মামুন বিশ্বাস।
মামুন বিশ্বাস জানান, “কীটনাশক প্রয়োগ করে পাখি মারা হয়েছে। এই খবর পেয়ে ২১ সেপ্টেম্বর তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে ২৭টি ঘুঘু এবং ৩টি মৃত কবুতর পান তিনি।
তবে মামুন বিশ্বাস মনে করেন, সেখানে তিনি যে পরিমাণে পাখির মরদেহ পেয়েছেন। প্রকৃত সংখ্যা ছিল তার চেয়ে আরও অনেক বেশি।
মামুন জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে খবর পান এরই মধ্যে অন্তত ২০টি পাখির মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া যেসব পাখি কিছুটা অসুস্থ ছিল, সেগুলো আশপাশের মানুষ খাবার জন্য নিয়ে গেছে। তিনি বাকি পাখির মরদেহগুলো স্থানীয় বন বিভাগের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করেন।
এই ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে শাহাজাদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাহাজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিদ মাহমুদ খান।
ওসি জানান, ঘটনাটি নিয়ে বন বিভাগের একজন কর্মকর্তা লিখিত অভিযোগ করেছেন। তারা ঘটনাটির প্রাথমিক তদন্ত করছেন।
বাংলাদেশে বিষ প্রয়োগ করে পাখি মারার ঘটনা নতুন নয়। বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেতের ফসল রক্ষার জন্য কীটনাশক বা বিষ দিয়ে পাখি মারা হয়। সম্প্রতি পাখি হত্যার বিরুদ্ধে সৃষ্টি হয়েছে জনমত। এসব ঘটনায় অভিযোগও দায়ের হচ্ছে থানায়।
২০১২ সালের বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে অপরাধীর দুই বছরের জেল, দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা হলো, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হয়। তবে সামান্য অর্থ জরিমানা ছাড়া আর কোনো শাস্তি দিতে দেখা যায় না।









