ধামরাইয়ে তিন ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ

সাদাকালো নিউজ
ঢাকার ধামরাইয়ে তিন ফসলি জমির মাটি কাটার জন্য কৃষি জমি নষ্টের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের পাল্লী গ্রামের মানুষরা বলছেন, পাল্লী মৌজার তিন ফসলি জমির মাটি কাটার ফলে তাদের চারপাশের জমি গুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কিছু ইট ভাটার মালিক বিভিন্ন অসাধু চক্রের সাহায্যে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
কুল্লা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাল্লী গ্রামের পাল্লী মৌজায় দেড়’শ বিঘা জমিতে সেচ প্রকল্প রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি)। সেখানকারও মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে লুটকারী চক্র। সেচ প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানকারী মো. আবু বকর সিদ্দিকের অভিযোগ, বিএডিসির প্রকল্পের তিন ফসলি জমির প্রায় ২৫ বিঘার মাটি কেটে নিয়ে গেছে ইটভাটার মালিক সোলাইমানের লোকেরা। সে প্রথমে লোক দিয়ে কোথাও জমি কেনে, এরপর এমনভাবে সেই জমির মাটি কাটে যাতে পাশের জমির মাটিও ভেঙে পড়ে। তখন অনেকে বাধ্য হয়ে জমি বিক্রি করে দিচ্ছে। আর কেউ বিক্রি না করলে জোর করে সেই জমির মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে।

আবু বকর সিদ্দিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ইটভাটার বিভিন্ন ধরনের ভারী গাড়ি চলাচলের কারণে চলাচলে কষ্ট হয় এলাকাবাসীর। বিশেষ করে এক্সকাভেটর চলাচলের কারণে এলাকার সব রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাকি যেসব ফসলি জমি আছে তাতেও চাষাবাদ করা যাচ্ছে না ভালোমতো। বিলুপ্ত হচ্ছে কৃষিজমি।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, কখনো প্রকাশ্যে আবার কখনো রাতের আঁধারে অন্যের ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। ভুক্তভোগীরা এলাকায় বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইটভাটার মালিক মো. সোলাইমান ইসলাম। তিনি জানান, আমার ইটভাটা আছে। তবে আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা। আমি কোনো ফসলি জমির মাটি কাটি না।
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি জানান, বৈধ ইটভাটার মালিকদের কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেমন তিন ফসলি জমির মাটি কাটা যাবে না, যে জমি থেকে মাটি কাটা হবে তার ৮ থেকে ১০ মিটার আইল রেখে কাটতে হবে যেন পাশের জমির ক্ষতি না হয়, ১২ থেকে ১৩ ফিটের বেশি গভীর করে মাটি কাটা যাবে না। এ ছাড়া কেউ জমি বিক্রি করতে না চাইলে জোর করে কেনা বা অন্যের জমির ক্ষতি করা যাবে না। এসব বিষয় অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।